উপরের পরীক্ষাটি চলে ইনস্ক্রিপ্ট কীবোর্ডে। অ্যাকাউন্ট লাগে না, খরচ নেই। প্রথমবারেই যে কীগুলো ঠিক পড়েছে, স্কোর কেবল সেগুলোই গোনে।
এখানকার বাংলা লেখায় ২৭৩৩টি অক্ষরের মধ্যে ৮৪৮টি হলো কার, ফলা আর হসন্ত — অর্থাৎ ৩১ শতাংশ।
ইংরেজিতে বা ওলন্দাজে এই সংখ্যাটা ঠিক শূন্য। সেখানে প্রতিটি চাপে একটি করে বর্ণ পড়ে, আর বাংলায় প্রতি তিনটি চাপের একটিতে পড়ে এমন একটা চিহ্ন যা একা দাঁড়াতেই পারে না।
ব্রাহ্মী-উদ্ভূত অন্য লিপিগুলোতেও অনুপাতটা কাছাকাছি — তেলুগু ৩৬.৫, তামিল ৩৪.৭, কন্নড় ৩২.৯ শতাংশ। কাজেই এটা বাংলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নয়, গোটা পরিবারেরই ধরন। বাংলার নিজস্ব ব্যাপারটা পরের অংশে।
সবচেয়ে বেশি আসে আ-কার — ২৫৩ বার। তারপর এ-কার ১৭৬, হসন্ত ১১০, ই-কার ৮৮, নুক্তা ৭২, উ-কার ৫৩, ও-কার ৩৮।
হাতের জন্য এর মানে হলো, গতি আসে বর্ণ চেনা থেকে নয়, কার চেনা থেকে। বর্ণ ৩৮টি; মনে রাখার আসল জিনিস তার চেয়ে কম, কিন্তু সেগুলো বেশি বার আসে।
ই-কার আর এ-কার ব্যঞ্জনের আগে দেখা যায়, অথচ চাপতে হয় ব্যঞ্জনের পরে। ও-কার আরও এক ধাপ এগিয়ে — সে ব্যঞ্জনের দুই পাশে বসে।
এখানকার লেখায় এমন চিহ্ন আছে ৩০৭টি: ই-কার ৮৮, এ-কার ১৭৬, ঐ-কার ৩, ও-কার ৩৮, ঔ-কার ২। অন্যদিকে আ-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার আর ঋ-কার — মোট ৩৩৮টি — যেখানে টাইপ করা হয় সেখানেই বসে।
এই ৩০৭ মানে সব অক্ষরের ১১.২ শতাংশ, আর এখানেই বাংলা সাইটের সব ভাষার চেয়ে এগিয়ে। ওড়িয়ায় ৮.২, কন্নড়ে ৭.২, তামিলে ৫.৩, হিন্দিতে মাত্র ২.৭ শতাংশ। কারণ এ-কার বাংলায় খুব সাধারণ, আর সেটিও বসে বাঁয়ে।
ফলে পর্দায় লেখাটা মাঝে মাঝে পিছনের দিকে বাড়ে। ক চেপেছেন, কার্সর এগিয়েছে; ই-কার চেপেছেন, অক্ষরটা গিয়ে বসেছে ক-এর বাঁয়ে। চোখ যা দেখে আর আঙুল যা করে, দুটো এক ক্রমে চলে না।
অভ্যাস হয়ে গেলে এটা আর সমস্যা থাকে না, কারণ হাত ক্রমটা মনে রাখে, চেহারাটা নয়। কিন্তু শেখার সময় ভুলগুলো ঠিক এখানেই হয়।
এখানকার পুরো বাংলা লেখায় একই বর্ণ পরপর দুবার এসেছে মাত্র ৩ বার। ১৮৯টি শব্দের তালিকায় এমন শব্দ আছে একটি।
তুলনায় ফিনিশে সেই সংখ্যা ২৬৩, আর ওলন্দাজে ১৫৫। ওই দুটো ভাষার পাতা পুরোটাই এই বিষয়ে লেখা।
বাংলা দ্বিত্ব লেখে অন্যভাবে — হসন্ত দিয়ে যুক্তাক্ষর বানিয়ে, যেমন ক্ক। তাই পর্দায় একই অক্ষর পাশাপাশি দেখা যায় না, যদিও ধ্বনিটা দ্বিগুণই থাকে।
এখানে হসন্ত এসেছে ১১০ বার, অর্থাৎ যুক্তাক্ষর বাংলায় বিরল কিছু নয়। বিরল হলো পাশাপাশি দুটো একই বর্ণ।
নুক্তা এসেছে ৭২ বার, আর প্রায় পুরোটাই দুটি বর্ণে: য় ৫০ বার আর ড় ২২ বার।
এই দুটো ইউনিকোডে একটি অক্ষর নয়। য় হলো য আর নুক্তা, ড় হলো ড আর নুক্তা — অর্থাৎ যে জিনিসটা পড়তে এক বর্ণ, লিখতে দুই চাপ।
নুক্তা আছে ডান হাতের কনিষ্ঠায়, আর সেটাই এটাকে একটু ঝামেলার করে তোলে: কনিষ্ঠা এমনিতেই সবচেয়ে দুর্বল আঙুল, আর এখানে তাকে একটা খুব সাধারণ বর্ণের অর্ধেক বইতে হয়।
স্কোর অবশ্য অক্ষর গোনে, চাপ নয়। য় একটি জায়গা, দুটি নয়।
পরিষ্কার করে বলা ভালো: এখানকার বিন্যাস ইনস্ক্রিপ্ট, যেটা ভারতের সরকারি মান এবং পশ্চিমবঙ্গে বহুল ব্যবহৃত।
বাংলাদেশে ছবিটা আলাদা। সরকারি দপ্তর আর প্রকাশনায় চলে বিজয়, আর ইন্টারনেটে চলে অভ্র। অভ্র ধ্বনিভিত্তিক — আপনি ইংরেজি অক্ষরে লেখেন, পর্দায় বাংলা ফোটে।
সেটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা দক্ষতা। অভ্রে যিনি দ্রুত লেখেন, তিনি আসলে ইংরেজি বিন্যাসে দ্রুত, আর সেই গতি এখানে সরাসরি কাজে আসবে না। এতে আপনার দোষ নেই, আর এই স্কোরও আপনার বাংলা লেখার ক্ষমতার মাপ নয়।
যা এই পরীক্ষা মাপে তা হলো ইনস্ক্রিপ্টে আপনার গতি। সেটা শিখতে চাইলে মাপটা কাজের; না চাইলে এই সংখ্যাটার ওপর ভর দেবেন না।
অন্য সাইটের চেয়ে পাঁচ থেকে পনেরো কম ধরে রাখুন। এর পিছনে দুটো সিদ্ধান্ত।
Typepace দেখায় নিট, গ্রস নয়। গ্রস গোনে আপনি যা কিছু লিখেছেন; নিট গোনে কেবল যা প্রথমবারেই ঠিক ছিল। এই দুইয়ের ফারাকই আপনার ভুলের দাম, গতির সঙ্গে একই এককে।
শুধরে নিলেও কিছু ফেরত আসে না। ব্যাকস্পেসে ফিরে গেলে ওই জায়গাটার বিচার আগেই হয়ে গেছে — যখন আপনি সেটা পেরিয়ে এসেছিলেন। কার ভুল হলে এটা বেশি টের পাওয়া যায়, কারণ ভুলটা থাকে শব্দের মাঝখানে আর চোখে পড়ে শেষে।
শব্দতালিকা আর উদ্ধৃতি মূলেই বাংলা। তালিকা সত্যিকারের ব্যবহারের হার অনুসরণ করে, ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা নয়; উদ্ধৃতিগুলো প্রবাদ আর এমন পঙ্ক্তি যাদের শব্দ বাংলা।
দীর্ঘ আর পেশাগত লেখাগুলো উল্টো, আর সেটা সরাসরি বলাই ভালো: ওগুলো একই কয়েকটি অনুচ্ছেদ যা সাইটের প্রতিটি ভাষায় আছে, বাংলায় এনে টাকা আর তারিখ বসিয়ে নেওয়া। এটা ইচ্ছাকৃত। যিনি একই লেখা বাংলায় আর ইংরেজিতে লেখেন, তিনি নিজের দুটো চেষ্টা মেলান, দুই রকম লেখা নয়।
মাপ হিসেবে না, অনুশীলন হিসেবে হ্যাঁ — যদি ইনস্ক্রিপ্ট শিখতে চান। অভ্র ধ্বনিভিত্তিক, আপনি ইংরেজি অক্ষর চাপেন; এখানকার বিন্যাসে প্রতিটি কী একটি বাংলা বর্ণ। দুটো আলাদা দক্ষতা, আর একটায় দ্রুত হলে অন্যটায় দ্রুত হওয়া যায় না।
কারণ বাংলা লিপিতে সে ওখানেই বসে, যদিও টাইপ করতে হয় ব্যঞ্জনের পরে। এটা ভুল নয় আর ঠিক করারও কিছু নেই — এ-কার আর ও-কারেও একই ব্যাপার। হাত ক্রমটা শেখে, চেহারাটা নয়।
প্রথম ব্যঞ্জন, তারপর হসন্ত, তারপর দ্বিতীয় ব্যঞ্জন। ক্ক মানে ক তারপর হসন্ত তারপর ক — তিনটি চাপ, আর পর্দায় একটি যুক্ত রূপ। এখানকার লেখায় হসন্ত এসেছে ১১০ বার।
পাঁচ দিয়ে গুণ করুন। প্রথা অনুযায়ী একটি শব্দ মানে পাঁচটি অক্ষর, আর পর্দার সংখ্যাটাও সেই একই প্রথায় হিসাব করা। তাই ৪০ মানে মিনিটে ২০০ অক্ষর, ৬০ মানে ৩০০। পর্দার wpm সংক্ষেপটা ইংরেজি; মাপ একই।
মাপার জন্য আছে, শেখার জন্য যথেষ্ট নয়। এটা দেখায় আপনি এখন কোথায় আর কোন কীগুলোয় সময় যাচ্ছে। দশ আঙুলে শেখার জন্য সাইটে আলাদা অংশ আছে যা হোম রো থেকে শুরু করে, আর মাঝে মাঝে এখানে ফিরে দেখা যায় কিছু এগোল কি না।